অভিনব প্রতারণার নতুন ফাঁদ
অভিনব প্রতারণার নতুন ফাঁদ
এক ঘন্টা আগে আমার কাছে একটা ফোন আসলো, আমার খুব কাছের এক বন্ধু ফোন করে বলল যে, কমলের মা মারা গিয়েছে। কমল হলো আমাদের স্কুল জীবনের ভালো এক বন্ধু যার সাথে ৩০ বছর আমার কোন যোগাযোগ নেই। সে নাকি আমাদেরকে খোঁজ করছে এবং আমাদের অনেক বন্ধুর নাম্বার তার কাছ থেকে জোগাড় করেছ, তার মোবাইলে ১০০ টাকা ফ্লেক্সি করে অনুরোধ করেছে যেন, সে যেন সকল বন্ধুকে মৃত্যু সংবাদটা জানিয়ে দেয়। মনটা খুবই বিষন্ন হল। আহারে কমলের মত একজন ভালো বন্ধুর মা মারা গিয়েছেন যার সাথে আমার বিশাল এক গ্যাপ হয়ে গেছে।
যাইহোক এর কিছুক্ষণের ভিতরেই 01757856054 এই নাম্বারে কমল বন্ধু ফোন করলেন, ফোনে হাউমাউ করে কান্না করতে করতে তার মায়ের মৃত্যু সংবাদ দিল। আমি যথারীতি তাকে অনেক সান্তনা দিলাম। বললাম যে, সৎকারের চারদিন পরে যে প্রোগ্রাম হয় সেখানে আমাকে যেন বলে। যথারীতি ফোন রেখে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার কমলের ফোন, তার কথার ধরন ছিল এরকম,----
বন্ধু আমি একটা মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছি, আজ শনিবার ব্যাংক বন্ধ, আমার পকেটে ২ লক্ষ টাকার চেক আছে কিন্তু টাকা তুলতে পারছি না। আমার মায়ের লাশ বারডেম হসপিটাল্য নিচে অ্যাম্বুলেন্সের রাখা আছে। ৩০ হাজার টাকার অভাবে মায়ের লাশটা ছাড়াতে পারছিনা। তারপর আমার বিভিন্ন বন্ধুর নাম বললো, ওদের কাছে নাকি টাকা চেয়েছে ওদের কারো কাছে টাকা নেই এই মুহূর্ত।। এই মুহূর্তে টাকা না পেলে তার মায়ের লাশ নিয়ে যেতে পারবে না। তাই বন্ধু যেভাবে পারিস হাওলাত করে হলেও আমাকে নগদে ৩০ হাজার টাকা পাঠা, আমি সন্ধ্যার আগেই তোর টাকা ফেরত পাঠাবো। দয়া করে বন্ধু পাঠা, আমি অ্যাম্বুলেন্সের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
সাধারণত মায়ের মৃত্যুর সংবাদে আমি স্থির থাকতে পারিনা। চিন্তা করলাম বন্ধু বিপদে পড়েছে ৩০ হাজার টাকাই তো। যে কারো থেকে নিয়ে দিতে পারি। রেডি হচ্ছিলাম দোকানের দিকে যাবো নগদ পাঠাতে, এরই মাঝে আরো তিনবার ফোন। বারবার শুধু একই কথা বন্ধু একটু তাড়াতাড়ি কর। আমার নোয়াখালীর বন্ধুকে আমি ততক্ষণই ফোন করে বললাম যে ,কমল আমার কাছ থেকে টাকা চেয়েছে। ওকে আরো বললাম যে একটু খোঁজখবর লাগা এই কমল আমাদের স্কুল বন্ধু কমল কিনা। ও খবর নিয়ে কোন কুল কিনারা করতে পারল না। কি আর করবো, কমল কে ব্যাপারটা নিয়ে কিছু বলা ও যাচ্ছিল না। কারণ তারা মায়ের মৃত্যুর ব্যাপার।
নগদে টাকা পাঠানোর ঠিক আগ মুহূর্তে আবার কমলের ফোন, তৎক্ষণাৎ আমার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে তুই কোন কমল ??
কমার্স কলেজের কমল, নাকি জগন্নাথের কমল। ও বলল যে সে নাকি কমার্স কলেজের কমল 
। মামু এখানেই ধরা খাইলো, কারণ কমার্স কলেজ এবং জগন্নাথ দু জায়গায় আমার কোন কমল নামের বন্ধু ছিল না। যা বুঝার বুঝে গেলাম। তাকে বললাম, কমার্স কলেজের কমল নামের এক শুয়োরের বাচ্চাকে আমি চিনতাম। তুই কি ওই শুয়োরের বাচ্চা। সাথে সাথে ফোনটা কেটে দিল 

।
আমাকে আল্লাহ ত্রিশ হাজার টাকা থেকে বাঁচাইলো। হাসলাম, চিন্তা করলাম যে মাঝে মাঝে উপস্থিত বুদ্ধিও মানুষের অনেক দরকার। প্রতারণার কত কৌশল জানে মানুষ। পুরো দেশটার মধ্যেই প্রতারকে প্রতারকে ভরে গেছে। বন্ধুরা বন্ধুদের সাথে প্রতারণা করে।ভাই বোন একে অন্যের সাথে প্রতারণা করে। শেষ পর্যন্ত মাকে নিয়েও প্রতারণা। আহারে প্রতারক দল আর কত??? এভাবে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে একবার আমি বিকাশে ৬ হাজার টাকা হারিয়েছি।। এখানেও একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হচ্ছিল। আল্লাহ মাবুদ বাঁচিয়ে দিয়েছেন।। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া।।
এরপর তথাকথিত কমল কে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। কিরে কমল টাকা নিবি না ??আমি তো নগদের দোকান টাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
সকলকে অনুরোধ করছি যে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য। কারণ এই প্রতারক চক্র এভাবে আরও অনেকেরই ক্ষতি করতে পারে।
No comments