BLUF (Bottom Line Up Front): ভারতের ‘র’ বাংলাদেশ নিয়ে এই মুহূর্তে ভীষণ একটিভ। ইউনুস সরকারকে
দ্যা মিরর এশিয়ায় বাংলাদেশ আর ‘র’ সংক্রান্ত একটা মারাত্মক আর্টিকেল এসেছে আজ।
BLUF (Bottom Line Up Front): ভারতের ‘র’ বাংলাদেশ নিয়ে এই মুহূর্তে ভীষণ একটিভ। ইউনুস সরকারকে শিবির-হেফাজত-হিজবুত তাহেরীর দারা ইনফুয়েন্সড দেখিয়ে জনবিচ্ছিন্ন করা, বিএনপির সাথে ভারতের কূটনৈতিকদের যোগসাজস, বামদের সাথে ‘র’ এর যোগসাজশ, বিএনপি-জামাতের ক্ষমতার দ্বন্দে আওয়ামীলীগ পলিটিক্যালি সামনে এগিয়ে ছয়মাসের মধ্যে নির্বাচন।
এবার আমার অল্প কিছু বিবরণী সহ প্রতিবেদনটির কিছু চুম্বক অংশ:
১) ১৬ জুলাইয়ের পর ছাত্র আন্দোলনের পরিস্থিতি যখন হাসিনার অনুকূলে যায় তখন হাসিনার বিশেষ অনুরোধ ও ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সরাসরি তদারকিতে বাংলাদেশে ‘র’ এর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪০০ কর্মকর্তা ঢাকায় যান। তাদের ভাষায়, আন্দোলন কাশ্মীরি কায়দায় দমন করে তারা দিল্লি ফেরেন ২৮ জুলাই। এর কারণেই আমরা দেখেছি প্রশাসন আর ছাত্র লীগের হাতে আন্দোলনের হাজার ছাত্র নিহত, আর আহত কয়েক হাজার।
২) ‘র’ ৫ আগস্টের পর দুইটি প্রতিবিপ্লবের চেষ্টা করে: ১০ আগস্ট সংখ্যালঘুদের সমাবেশের আড়ালে একটি প্রতিবিপ্লব, তার জন্য বিপুল সংখ্যক ভারতীয় সাংবাদিকও সেদিন ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন। সেটি ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় ক্যু পরিকল্পনা করা হয় ১৫ আগস্ট। সেটিও ব্যর্থ হয়। তবে সম্প্রতি দেশে যে আনসার বিদ্রোহের পরিকল্পনা হয়, তা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ। তার সাথে ‘র’ এর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি দ্য মিরর এশিয়া।
৩) হাসিনা ভারতে অত্যন্ত ব্যস্ত আর নিরাপদ সময় ব্যয় করছে এই মুহূর্তে। অতি সম্প্রতি ভারতের ডজনখানেক হাই-প্রোফাইল মিটিং হয়েছে হাসিনার সাথে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ‘র’ প্রধান নিজে শেখ হাসিনার দেখভাল করছেন এবং তার সাথে প্রায়ই বৈঠক করছেন।
৪)মিররের ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট অনুযায়ী ভারত এই মুহূর্তে দুই নৌকায় পা রেখে চলতে চায়। প্রথমত, ঢাকার নতুন সরকার ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের গতিবিধি নজরদারি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫) মোদীর কার্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, তারা জামায়াতে ইসলামীর সাথেও আলোচনা করতে রাজি। তবে জামায়াতের জন্য আলোচনার ‘দরজা’ খুলতে চান না তারা, কেবল ‘জানালা’ খুলতে চায়।
৬) ‘র’ এই মুহূর্তে জোর চেষ্টা করছে ইউনূস সরকারের নাম আর উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবোধক বানাতে। বয়ান স্টাবলিশ করতে চাচ্ছে যা ইউনুস সরকারের উপর শিবির, হেফাজত ও হিযবুত তাহরির ইনফুয়েন্স আছে।
৭) আর্টিকেলটি বলছে যে হেফাজত ইসলামের একটি অংশের সাথে সাথে ‘র’ এর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ আছে। তাদের বোঝানো হচ্ছে ‘ড. ইউনূস সুদখোর, মার্কিন এজেন্ট, কোনভাবে একজন ভালো মুসলিম নন। বেশ কিছুদিন গেলে এই সরকার সমকামীদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে পারে’। এই গ্রুপকে জামায়াতের সাথে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ঐক্যে না যাওয়ার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৮) এখন ‘র’ এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশন হচ্ছে আন্দোলনকারীদের সাথে হিযবুত তাহরীর সংশ্লিষ্টতা ও তাদের ভাবাদর্শ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মনে একটি ভয় তৈরি করা।
৯) ইতিমধ্যে ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী’ তিনজন বামপন্থী সাবেক ছাত্রনেতার সাথে পশ্চিম বাংলায় দিল্লিতে কর্মরত একজন সাংবাদিক দীর্ঘক্ষণ আলাপ করে ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার কথা বলেছেন।
১০) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের প্রত্যেকের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে হিন্দি ও ইংরেজিতে অনুবাদ করে ভিক্টর-২ এর টেবিলে দেওয়া হয়েছে। ভিক্টর-২ হলো ‘র’ এর একটি প্রোটোকল, যার কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কিত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
১১) অন্যদিকে, আন্দোলনকারী সমন্বয়কদের নিয়ে ও তাদের আদর্শিক ধারণা নিয়ে দিল্লির দুটি ও আসামের একটি থিংক ট্যাংক গত ২০ দিন ধরে গবেষণা করেছে। তিনটি সংস্থার রিপোর্ট বলছে, সমন্বয়করা যে দল গঠন করতে যাবে তা হবে একটি ভারতবিরোধী রাজনৈতিক দল। বামপন্থি বৈপ্লবিক ধারণা তারা পোষণ করলেও তাদের সাথে ধর্মের বিরোধ থাকবে না। এই আদর্শের ফলে মূলত দেশের বামপন্থিদের রাজনৈতিক স্পেস একেবারে শূন্য হয়ে যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। ফলে তারা বামদের সাথে তরুণদের একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হবে বলে ধারণা করছেন। সে চিন্তা থেকেই ‘র’ বামপন্থি ছাত্র নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছে।
১২) আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে বহাল থাকবে, যার কলকাঠি থাকবে দিল্লীতে বসে হাসিনার হাতে। আমার মতে এই এক কারণেই শেখ হাসিনা, আর তার সকল মন্ত্রিবর্গের বাংলাদেশে সকল ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সেটা বিশ্বের যে কোন জায়গা থেকেই হোক, নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। যদি হাসিনার বা তার পূর্বের কোনই টিম মেম্বারের সাথে আওয়ামী লীগের কোন রকম সংশ্লিষ্টতা দেখা যায় তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাতিল করার আইনি ম্যানডেট দেয় প্রয়োজন।
১৩) ভারত মনে করছে, বিএনপি আমলে বরং আওয়ামী লীগ বেশি নিরাপদ থাকবে। বিএনপির নানা সংকট সামনে চলে আসলে, বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হলে আওয়ামী লীগ একটা পলিটিকাল স্পেস পেতে পারে।
১৪) ভারত বেশিদিন ছাত্রদের রাজনীতির মাঠে দেখতে চায় না। এই মুহূর্তে ভারতের অগ্রাধিকার হলো- তরুণদের কোন দল গঠনের সুযোগ না দিয়ে বর্তমান সরকারকে নভেম্বরের মধ্যে হিযবুত তাহরির ও শিবির প্রভাবিত সরকার বলে একটা অস্থিরতা তৈরি করা। অন্যদিকে নির্বাচনের পরিবেশের কথা বলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগকে প্রকাশ্য রাজনীতিতে নিয়ে আসা।
No comments