Header Ads

Header ADS

আমি একবার ২২০০ ডলারে গাড়ি কিনে সেটা তিনমাস পর ৮০০ ডলারে বিক্রি করে দিয়েছিলাম। সেই থেকে গাড়ি সম্পর্কে জানার চেষ্টা শুরু করি।

 আমি একবার ২২০০ ডলারে গাড়ি কিনে সেটা তিনমাস পর ৮০০ ডলারে বিক্রি করে দিয়েছিলাম। সেই থেকে গাড়ি সম্পর্কে জানার চেষ্টা শুরু করি।

আগের লেখায় গাড়ি কেনার সাধারণ টার্মগুলো নিয়ে বলেছি, এবার কিছু চেকিং নিয়ে বলি। সম্ভব হলে গাড়ির ইতিহাস নিজে বের করুন বা কাউকে দিয়ে করান। দুই এক সময় গাড়ির বিক্রেতা কাগজে প্রিন্ট দেখায়, যেটা আসল ওয়েবসাইটের সাথে মেলে না। (এরকম দুনম্বরী হবার ঘটনা দেখেছি ইউনিভার্সিটিতে)। **আপনি ভালো না জানলে গাড়ি বোঝেন -এমন কোন এক্সপার্টকে সাথে নিন।**
পরিচিত মেকানিকের কাছে দেখাতে পারলে ভালো হয়, তবে সব বিক্রেতা আপনাকে সেই সুযোগ দেবে না। আর, ইউজড গাড়ির ডিলার থেকে কিনলে, তারা কি রকম নিশ্চয়তা দিচ্ছে -সেটা পরিষ্কার করে জেনে নিন। কারো সুনাম বা দুর্ণাম পরিচিতদের কাছে শুনতে পারবেন।
এঞ্জিনের ডিপ স্টিক দিয়ে অয়েল (আমরা যেটাকে বাংলায় 'মবিল' বলি) দেখাটা একটা সাধারণ কার্টেসি। এটা না করলে বিক্রেতা মনে কষ্ট পেতে পারে
আমাকে এক মেকানিক একটা ট্রিক বলে দিয়েছিল: " যদি কোন গাড়ির মাইলেজ মিটারে ১১০k দেখায়, তুমি গাড়ির ব্রেক আর গ্যাস পেডাল ('অ্যাকসিলেটর') দেখবা। এই দুইটা মানুষ পা দিয়ে পারায়, কাজেই এর উপরের ক্ষয় থেকে কিছুটা আন্দাজ করতে পারবা। তোমার যদি মনে হয়, এতো বেশি ক্ষয় এই ১১০k মাইলে হবার কথা না -তাহলে বুঝবা এই লোক মিটার ঘুরায়ে রাখছে।"
শব্দ: এঞ্জিনের শব্দ কেমন সেটা খেয়াল করুন, আপনার সাথের এক্সপার্ট হয়তোবা ভালো বুঝবেন। এঞ্জিনের "ক্লিকিং" বা "িটকিং" বলে একরম আওয়াজ হলে সেই গাড়ির সিলিন্ডার থেকে রড একসময় বের হয়ে আসে। অনেক অসাধু বিক্রেতা এঞ্জিনে লুকাস নামের একরকম ঘন জিনিস দিয়ে এই আওয়াজ চাপিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করে!
রং: কখনো কখনো বডির কিছু অংশ অন্য গাড়ি থেকে খুলে রিপ্লেস করা থাকে। দরজা বা অন্য কোন অংশের সাথে বর্ডারে খেয়াল করবেন রংয়ের তারতম্য আছে কিনা।
টেস্ট ড্রাইভ: এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট! অনেকসময় বিক্রেতা যদি বলে, "লাইসেন্স প্লেট নাই, আমার উঠানে চালিয়ে দেখো।" তৎক্ষণাত চলে আসুন। আপনি গাড়ি মোটামুটি হাই-স্পিডে না চালালে অনেক সমস্যা/শব্দ টের পাবেন না। আর, সবগুলো গিয়ারে স্মুদলি অটো শিফট হয় কিনা সেটা দেখা দরকার। রাস্তায় চালানোর সময় তো সবগুলো গিয়ার ব্যব‌হার হবে
মোটামুটি খালি সোজা জায়গায় রাস্তায় স্টিয়ারিং থেকে কয়েক সেকেন্ড হাত আলগা করে দেখবেন গাড়ি ডানে বা বামের দিকে যাচ্ছে কিনা। এটা গাড়ির হুইল অ্যালাইনমেন্ট সম্পর্কে আপনাকে ধারণা দেবে
টায়ার: টায়ার দেখে অনেক কিছু বোঝা যায়। যদি দেখেন টায়ারের একদিকে অসমভাবে ক্ষয় হয়েছে -সেটা বাজে অ্যালাইনমেন্টের একটা নির্দেশক। এতে আপনার তেল খরচের উপর প্রভাব পড়বে। আর, টায়ারে মোটামুটি আয়ু থাকা দরকার। যদি টায়ারের আয়ু প্রায় শেষের দিকে হয়, তাহলে সেই অনুযায়ী দামাদামি করুন।
ড্যাশবোর্ড: ড্যাশবোর্ডে চেক এঞ্জিন লাইট তো থাকা উচিত না। তবে, টুল দিয়ে সেই চেক এঞ্জিন লাইট কয়েক মিনিট বা ঘন্টার জন্য ক্লিয়ার করা থাকতে পারে। হেডলাইট অন করে খেয়াল করুন, ড্যাশবোর্ডে লাইট জ্বলে কিনা। আমি একবার দিনের বেলায় গাড়ি কিনে এনে পরে রাতের বেলায় টের পেয়েছিলাম, ড্যাশ বোর্ডের ব্যাকলাইট নাই!
অন্যান্য সবকিছু: অটো জানালা, ট্রাংক খোলা আর বাকি সব সাধারণ জিনিস দেখুন।
অন্যান্য ফ্লুয়িড (পাওয়ার স্টিয়ারিং, ‌্ইত্যাদি দেখতে পারেন)। কুল্যান্ট এর ঢাকনা কোন অবস্থাতেই গরম অবস্থায় খুলবেন না কখনো!
সবশেষে, গাড়ির চেহারা দেখে মুগ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন না। ছাত্রজীবনে আপনার দরকার রিলায়েবল বাহন যেটার রিপেয়ারে আপনার খরচ কম হবে, মেকানিকের কাছে দৌড়াদৌড়ি করে আপনার রুটিনে ব্যাঘাত ঘটাবে না।
লেখাটা অ্যামেরিকায় নতুন ছাত্রদের পাঠাতে পারেন, তাদের কাজে আসতে পারে।
(একই সাথে Page: "American Life: জেনে রাখা ভালো" তে প্রকাশিত)

No comments

Powered by Blogger.