Header Ads

Header ADS

মাননীয় উপদেষ্টা Asif Mahmud আসিফ মাহমুদের এই ঘোষণাটা দেখে আমার দুটি গল্প মনে পড়ল। প্রথমটি শেখ হাসিনার ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। দ্বিতীয়টি কেনিয়ার একটি গল্প, যা অর্থনীতিবিদ Jyoti Rahman জ্যোতি রহমান বলেছিলেন।

 মাননীয় উপদেষ্টা Asif Mahmud আসিফ মাহমুদের এই ঘোষণাটা দেখে আমার দুটি গল্প মনে পড়ল। প্রথমটি শেখ হাসিনার ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। দ্বিতীয়টি কেনিয়ার একটি গল্প, যা অর্থনীতিবিদ Jyoti Rahman জ্যোতি রহমান বলেছিলেন।

আমাদের শেখ ফ্যামিলির মত, , কেনিয়াতেও রাজবংশ ছিল — কেনিয়াট্টা পরিবার। জোমো কেনিয়াট্টা ছিলেন তাদের জাতির পিতা, আর তার ছেলে উহুরু ছিলেন শেষ প্রেসিডেন্ট। কেনিয়াট্টারা শেখ পরিবারের মতোই দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল,এবং আমাদের মতই কেনিয়াট্টারা বড় অংকের ঋণ ও বকেয়া রেখে গিয়েছিল।
কিন্তু হাসিনার সাথে , কেনিয়াট্টাদের পার্থক্য হচ্ছে তারা অবাধ নির্বাচন করতে দিয়েছিল। ২০২২ সালের শেষ নির্বাচনে, যিনি জিতেছিলেন, তিনি সংস্কারের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিলেন। এই ব্যক্তি, রুটো, ছিলেন দরিদ্র পটভূমি থেকে উঠে আসা একজন স্বনির্মিত মানুষ। তিনি কেনিয়াতে অর্থনীতিকে সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার মতো একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।
ক্ষমতায় আসার পর, তিনি সত্যিই সংস্কারের চেষ্টা করেন, যা অনেক অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে আসা — কেউ কর দিতে চায় না, সরকারি কর্মচারীরা কাজ করতে চায় না, মানুষ অতিরিক্ত ভর্তুকি তুলে নিলে অভিযোগ করে, টাকা না ছাপিয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যায় কমানো বা , ট্যাক্স বৃদ্ধি ইত্যাদি ইত্যাদি ।
আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানের কিছু দিন আগেই কেনিয়ার শিক্ষার্থীরা সংসদে ঢুকে প্রেসিডেন্ট রুটোকে তার এই সংস্কার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে বাধ্য করে।
এই দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক আছে।
আসিফ মাহমুদের ৫ লক্ষ চাকুরি এবং শেখ হাসিনার ঘরে ঘরে চাকুরীর প্রস্তাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বর্তমান প্রধান সংকট- কষ্ট অফ লিভিং সামর্থ্যের উরধে ও কষ্ট অফ ডুইং বিজনেস ভারত থেকে বেশী- নিহিত।
এই সংকটের সুত্র শেখ হাসিনার সেই রাজনীতি যাতে তিনি সবাইকে বুঝাইছেন যে কোনো ভ্যালু ক্রিয়েশন ছাড়াই সরকারি চাকরিতে ঢুকলে আপনার জীবন নিরাপদ, নিশ্চিত- কারণ প্রিম্যাচুর ডিইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশানের কারণে বেসরকার শ্রম বাজারের সংকোচনের ফলে সরকারী চাকুরি বাদে ভালো চাকুরীর সুযোগ নাম মাত্র ।
সরকারী চাকুরীর এই লোভটাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সুচনা করে , যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের ছাত্র জনতা ও অ্যাকটিভিস্টরা শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত করে। এই মনোভাবের কারণেই আনসারদের আন্দোলন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ বন্ধ করা, এবং এমপিও চাওয়া শিক্ষকদের শিক্ষা উপদেষ্টার পা ধরে থাকার দেওয়ার মতো ঘটনা গুলো ঘটতেছে।
কারণ, শেখ হাসিনা পুরো রাষ্ট্রকে বুঝিয়েছেন যে সরকার অসীম খরচ করার ক্ষমতা রাখে এবং তিনি সেটা নিজের পকেট থেকে জনগণকে দেবেন। এই প্রত্যাশা দেখিয়ে তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ডেস্টিনি, ইভ্যালি, ইউনিপের মত একটি পঞ্জি স্কিমে রূপান্তর করেছেন।
এই পঞ্জি স্কিমে ভ্যালু ক্রিয়েশন বাদেই ঋণ করে খরচ করা হয় এবং যখন সেই ঋণ ফেরত দেওয়ার সময় আসে, তখন নতুন ঋণ বা নতুন “কাস্টমার” খুঁজতে হয় বা টাকা ছাপায় দেশ চালাতে হয় ।
এই পঞ্জি স্কিমের খরচ মেটাতে গত দুই বছরে এক লক্ষ কোটি টাকা করে টাকা ছাপানো হয়েছে। ২০২৩-২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পরে জানা গেছে, ৬৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ছাপানো হয়েছে।
অনেক সময় টাকার পরিমাণের সংখ্যাটার ব্যাপ্তি ব বোঝা যায় না। এক কোটি প্রবাসী পুরো এক বছরে ২ লক্ষ কোটি টাকা পাঠায়, আর শেখ হাসিনা দুই বছরে সেই পরিমাণ টাকা ছাপিয়েছেন।
এখন আমরা এই পঞ্জি স্কিমের ঋণ পরিশোধের পর্যায়ে পৌঁছেছি। ইউনুস সরকার বা তার পরবর্তী সরকার কেউ শেখ হাসিনার মতো অপারভাবে খরচ করে, টাকা না ছাপায় দেশ চালাতে পারবে না।
এ অবস্থায় বাংলাদেশের কষ্ট অফ লিভিং ও কষ্ট অফ ডুইং বিজনেস কমানোর একমাত্র উপায় সরকারের আকার ছোট করা। বিকল্প হিসেবে ট্যাক্স বৃদ্ধি করা যায় কিন্তু এর ফলে কষ্ট অফ লিভিং বা ডুইং বিজনেস বাড়তে থাকবে।
এখন পাঁচ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের কথা বলা দূরে থাক, আর্থিক ধ্বংস ঠেকাতে সরকারকে অপ্রয়োজনীয় কর্মী ছাঁটাই করতে হবে।
কিন্তু, বাংলাদেশের প্রশাসন তা করতে দেবে না।
এখানে আসে দ্বিতীয় ক্রিটিকাল প্রব্লেম।
শেখ হাসিনাকে সবচেয়ে বড় সমর্থন দিয়েছে এই প্রশাসন, কারণ তিনি তাদের এমএলএম পঞ্জি স্কিমে টাকা ছাপায় তাঁদের সন্তুষ্ট রেখেছেন। প্রশাসনের বাড়তি ব্যয় মেটাতেই প্রতি বছর ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাপাইতে হচ্ছে।
যে অতিরিক্ত টাকা ছাপানো ও প্রতিটি খাতে প্রশাসনের ঠেকের কারণে আমাদের উৎপাদন খরচ ভারতের তুলনায় ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশে ডিম উৎপাদন খরচ যেখানে ১০-১১ টাকা, ভারতে তা মাত্র ৫ টাকা। ভারতের উৎপাদন খরচ বাংলাদেশ থেকে কম হওয়াতে, আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে গিয়েছি। এই বাস্তবতা না বুঝে পিনাকিদার নেতৃত্ব যে ভারতীয় পণ্য বরজন আন্দোলন পাঠে মারা গেছে উনার আন্তরিকতায় কোন অভাব ছিল না । উনি বয়ান তৈরি করা বোঝেন আর মানুষকে অলীক স্বপ্ন দেখায় উত্তেজিত করতে পারেন কিন্তু অর্থনীতির বেসিকটাই বুঝেন না।
এই টা বলার জন্যে আমারে র এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে ভিডিও বানাইছেন। সমস্যা নাই।
ফলে আজকে মাহফুজদের সভ্যতাগত রূপান্তরের আলাপ বা বিভিন্ন সংবিধান সংশোধন বা রাষ্ট্রকে সংস্কারের আমার কাছে হাইপারবোল লাগে কারন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কারের মুল প্রশ্নেই উনারা নাই।
বাংলাদেশের সংস্কারের মূল জায়গা হলো প্রশাসন সংস্কার। শেখ হাসিনার উৎখাতে রাজনীতি এখন এমনিতেই সংস্কারের ধারায় ঢুকে পড়ছে। বিএনপিকেও আজকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুশাসন দিতে ভেতর দিয়ে যেতে হবে নইলে তারেক রহমানকেও, বাংলাদেশের জনগণ আন্দোলন করে পরের টাইম দেশ থেকে লন্ডনে আবার ফেরত পাঠিয়ে দিবে । বটম লাইন হইলো, রাজনীতি এখন ডেমোক্রেসির ধারায় ঢুকে অটোমেটিক সংস্কারের মধ্যে ঢুকে যেতে বাধ্য। ডেমোক্রেসি ইটসেলফ একটা সেলফ কারেক্টিন প্রসেস- যে প্রসেসটা হাসিনা ১০ বছর বন্ধ করে রাখছিল ।
কিন্তু বাংলাদেশের মাথা ভারী অদক্ষ প্রশাসন যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধান বটলনেক, সেই বুরোক্রেসি জনগণের চাপে অটোমেটিক সংস্কারের কোন দায় নাই। এই হায় হায় কোম্পানি বনে যাওয়া পুরো প্রশাসনকে সংস্কার করতে হলে অত্যন্ত দক্ষ রাজনৈতিক নিয়োগ লাগবে সেইটা এডভাইজার হোক বা নির্বাচিত প্রতিনিধি হোক।
এই রাজনৈতিক প্রতিনিধি মন্ত্রী, এম্পি, এডভাইজার ইত্যাদিদের অর্থনীতি রাজনীতি প্রশাসন কিভাবে চালাইতে হয় ম্যান ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করতে হয় কিভাবে , চেঞ্জ ম্যানেজেমেন্ট কীভাবে করতে হয়, কনফ্লিক্ট কিভাবে রেজুলেশন করতে হয় , পাবলিক ফিনান্সের বাস্তবতা কি, মাইক্রো সিদ্ধান্তের ম্যাক্রো পারস্পেক্টিভ সব কিছুই মাথায় রাখতে হয়।
শেখ হাসিনার এই দক্ষতা দরকার হয়নি, কারণ তিনি পঞ্জি স্কিমের ঋণ নেওয়ার পর্যায়ে ছিলেন। কিন্তু বর্তমান শাসকদের সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যেইটা অত্যন্ত দুরুহ একটা দায়িত্ব ।
হাসিনার পতন আর্থিক সংকটে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই ছাত্র জনতা তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। এই অবস্থায় আগামী সব সরকারকেই এই হায় হায় কোম্পানি পঞ্জি স্কিম সামলাতে হবে। কারণ এখন সেই স্কিমের পেমেন্টর সময় এসে গেছে, দেশী বিদেশী ঋণ পরিশোধ শুরু হয়েছে। ফলে এই প্রশাসনের আকার ছোট করতে হবে, যদি আমরা কষ্ট অফ লিভিং ও কষ্ট অফ প্রডাকশানের এই কারস থেকে মুক্তি পেয়ে- বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আসতে পারি বা দরিদ্র মানুষকে খেয়ে পরে বেচে থাকতে দিতে চাই ।
এই অবস্থায় সরকারের নতুন ৫ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অসম্ভব, বরং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ও এআই ব্যবহার করে সরকারের অর্ধেক জনবল কমিয়ে সাধারণ মানুষের ট্যাক্স এবং গরিব মানুষের ভ্যাট কমানো সম্ভব।
এইটাই বর্তমান রাষ্ট্রের সব চেয়ে দরকারি সংস্কার।
চাই কি না চাই বাংলাদেশ সরকারকে জনগণকে কষ্ট অফ লিভিং কস্ট অফ ডুইং বিজনেস আন সাস্টেনেবল পর্যায়ে চলে যাওয়ার এই সংকট থেকে উদ্ধার করতে হলে একটা অস্টেরিটি এবং বাংলাদেশের জনগণকে একটা ডিগ্রোথের দিয়ে যাইতে হবে। বর্তমানে স্পস্টতই একটা স্টাগফ্লেশান চলতেছে যার যার পূর্ণ দেয় শেখ হাসিনা সরকারের।
যার প্রভাব আমরা ক্যাপিটাল মার্কেটে দেখতে পাচ্ছি।
হাসিনা ইকোনমিক্সের তৈরি এই সংকটকে আমি দীর্ঘদিন ধরে বলে এসেছি পার্মানেন্ট ডিক্লাইন বা স্থায়ী অধঃপতন।
এই স্থায়ী পতন থেকে মুক্তি পেতে হলে সম্পূর্ণ নতুন একটা বয়ান ডিসকোর্স এবং ফিলোসফি লাগবে।
এই সরকারকে টিকায় রাখতে পলিটিক্যাল ম্যাসেজিং টাও যদি ঠিক মতো করতে হবে এবং হাসিনার দুর্নীতির দায়ে কীভাবে সংকট গুলো তৈরি হয়েছে এবং কেন এর ঠেক উদ্ধারের সহজ কোন উপায় নেই, সেইটার ব্যাখ্যা জনগনকে দিতে হবে,
পাব্লিককে ভুল বোঝায় আরও ৫ লক্ষ লোক এমপ্লয় করার গল্প দিলে হবে না।
এগুলো শেখ হাসিনার ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার মতো বয়ান।

No comments

Powered by Blogger.