quran
********রহস্যময় ১৯৭৪ ঈসায়ী সাল ও পবিত্র কুরআনুল করিম************
১৯৭৪ সালে খ্যাতনামা মিশরীয় কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডঃ রশিদ খলিফা পবিত্র কোরআনুল করিম নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালান। প্রাথম ধাপে তিনি কোরআনের প্রতিটি অক্ষর যেভাবে কোরআনে সন্নিবেশিত আছে সেভাবেই কম্পিউটারে বিন্যস্ত করেন। পবিত্র কোরআনুল করিমে ১১৪ টি সূরার অবস্থান এবং ২৯ টি সূরার শুরুতে ব্যবহৃত ""হরুফে মোকাত্তায়াত"" যে নিয়মে বিন্যস্ত আছে সে নিয়মের আলোকে তিনি হিসাব করতে শুরু করেন। এতে করে কোরআনের কিছু অলৌকিক দূর্ভেদ্য গাণিতিক বন্ধনের বৈশিষ্ট্য তাঁর কম্পিউটার স্ক্রীনে ভেসে উঠে। এ অলৌকিক তত্ত্বের একটি হলো, মহাগ্রন্থ আল কোরআন গণিত শাস্ত্রের জটিল গাণিতিক বুননকৌশলের এক রহস্যময় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছে।কোরআনের সর্বত্র একটি বিস্ময়কর গাণিতিক সংখ্যার জাল বুনন রয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অনুপম সংখ্যা "১৯" দিয়ে আল কুরআনকে এমন এক গাণিতিক ফর্মুলায় সাজিয়ে রেখেছেন যেন এই মহাগ্রন্থে ব্যবহৃত বর্ণমালা-শব্দ ও আয়াতসমূহের কোনোরকম পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন এবং বিয়োজন করা কারো পক্ষে সম্ভব না হয়। সমগ্র কোরআন যেন "১৯" সংখ্যাটিরই একটি সুদৃঢ় বন্ধন। এই ফর্মুলাটি তৈরি হয়েছে "১৯" সংখ্যার গানিতিক অবস্থান দিয়ে।
(ক) ১৯৭৪ সালে ডঃ রশিদ খলিফা আবিস্কার করতে সক্ষম হন যে, পবিত্র কোরআনুল করিমের প্রতিটি অক্ষর-শব্দ-বাক্য-সূরা এবং প্রতিটি আয়াত ""অনুপম সংখ্যা ১৯"" এর সাথে সংযুক্ত। ব্যপক গবেষণার ফলে ফলাফল এমন পর্যায়ে এসে পৌছায়, যে কেউ সামান্য গুণ-ভাগ বুঝতে পারলে কোরআনুল করিমে স্বর্গীয় সংখ্যা ১৯ এর প্রয়োগ বুঝতে পারবেন।
ডঃ রশিদ খলিফার গবেষণার ফল আমাদেরকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে , এই পবিত্র গ্রন্থে স্বর্গীয় "১৯"" সংখ্যাটিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন গাণিতিক কোড হিসেবে ব্যাবহার করে কিতাবটিকে সুরক্ষিত করেছেন। নিঃসন্দেহে বলা যায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পরমকৌশলী । (খ) পবিত্র কোরআনুল করিম ১৯ সংখ্যার গাণিতিক কোড দিয়ে সাজানো একটি অনন্য নিদর্শন। এই তত্ত্বটি সর্ব প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৭৪ সালে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনুল কারিমে ৭৪নং সুরার নামকরণ করেছেন ""সুরাতুল মুদাসসির"" আরবী ভাষায়"মুদ্দাসসির" শব্দটির অর্থ "লুকায়িত বা গোপন""।
পবিত্র কুরআনুল কারিমের এই ৭৪নং সূরা মুদ্দাসসিরে অনুপম সংখ্যা ""১৯"" এর প্রয়োগ করেছেন ৩০নং আয়াতে। কথা হচ্ছে, আমরা আবিষ্কৃত অলৌকিক সংখ্যা "১৯" এর পাশে কোরআনুল করিমে উল্লেখিত সূরা মুদ্দাসসির এর অবস্থান ৭৪কে পাশাপাশি বসালেই যে সংখ্যাটি পাওয়া যায় তা হলো ১৯৭৪। এই ১৯৭৪ সালেই পবিত্র কুরআনুল কারিমের রহস্যময় বিষয়টি আবিষ্কার হয়েছে।
এই রহস্যময় ব্যাপারটি আরো কৌতুহলী হয়ে উঠে, যখন দেখা গেলো হযরত ইসা (আঃ) এর জন্মের পর আরো ১৯৭৪ বছর ধরে এই গোপন রহস্য মানবজাতীর জ্ঞানচক্ষুর আড়ালে রেখে দিয়েছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মহা পরাক্রমশালী-শক্তিশালী বিচার দিনের মালিক। কি মহামহিম তিনি ?
১৯৭৪ সালটি যখন দুনিয়াতে চলছিল, তখন দুনিয়াতে হিজরী সাল চলছিল ১৩৯৩ সাল। হিজরতের ১৩ বছর পূর্বে সর্বপ্রথম কুরআনুল কারিম নাজিল হওয়া শুরু হয়। এই তের বছর ১৩৯৩ হিজরি সালের সাথে যোগ করলে মোট যোগফল দাড়ায় (১৩+১৩৯৩) = ১৪০৬ বছর অর্থাৎ কোরআন নাজিলের প্রথম বছর থেকে শুরু করে ১৩৯৩ হিজরি পর্যন্ত মোট ১৪০৬ বছর পর কোরাআনের একটা ""মুদ্দাসসির"" বা "গোপন" রহস্য উন্মোচিত হয় ১৪০৬?? এটার আবার গুরুত্ব কি ? হুম দেখুন---- ১৯ কে ৭৪ দিয়ে গুন করলে ১৪০৬ হয়ে যায় যে! ১৯×৭৪=১৪০৬।
(গ) এই সূরা "মুূাসসিরের" প্রথম দুই আয়াত হলো—১. হে চাদরাবৃত-২. উঠুন সতর্ক করুন। এই দুটি আয়াতে মোট আরবী অক্ষর এর সংখ্যা ১৯ টি। আয়াত দুটির মোট সংখ্যাগত মান হিসাব করলে হয় ১৯৭৪! সতর্ক কেন করতে বলেছেন তিনি? আয়াত দুটি হল, ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাসসির, কুম ফাআনযির। ই য়া=১০, আলিফ=১, আলিফ=১, ইয়া=১০, আলিফ=১, আলিফ=১, লাম=৩০, মিম=৪০, দাল=৪, ছা=৫০০, র=২০০, ক্বাফ=১০০, মিম=৪০, ফা=৮০, আলিফ=১, নুন=৫০, যাল=৭০০, র=২০০ হা=৫ মোট মান বা যোগফল=১৯৭৪।
সূরাটি ৭৪ নং সূরা, মুদ্দাসসির শব্দটা আছে ১ নং আয়াতে। সুতরাং ১ নং আয়াতকে কোথাও রেফার করা হয় (৭৪,১) লিখে। কমা ছাড়া সংখ্যাটি ৭৪১,এই ১ নং আয়াত থেকে শুরু করে , কোরআনের সর্বশেষ আয়াত পর্যন্ত গননা করলে মোট ৭৪১টা আয়াত পাওয়া যায়। ৭৪১ সংখাটিও ১৯ দ্বারা বিভাজ্য (১৯×৩৯=৭৪১)।
(ঘ) সূরাটিতে অগ্নি অর্থে "সাকার" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ২৬, ২৭ ও ৪২ নং আয়াতে। এই আায়াতসমুহে বলা হয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখার পরও যারা পবিত্র কোরআনকে মানুষের উক্তি বলবে,তাদেরকে সাকার বা অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হবে। এখন দেখা যাক উল্লেখিত আয়াতসমুহের যোগফল আমাদের কি দিকনির্দেশনা দিচ্ছে = ২৬+২৭+৪২= ৯৫ = ১৯×৫= ৯৫। এই ২৬, ২৭ ও ৪২ নং আয়াত তিনটির সংখ্যাগত মান একত্রে যোগ করলে পাওয়া যায় (৫৫৬,৬৮৩,৬৬১) = ১৯০০, লক্ষনীয় ১৯×১০০=১৯০০। আরো অবাক ব্যাপারটা হলো, যদি আমরা এই তিনটি আয়াতের সংখ্যাগত মানের সাথে, কোরআনের সূরাটির অবস্থান (৭৪) কে যোগ করি তাহলে আমরা সেই সালকে পাব যে সালে ১৯ এর রহস্য আবিষ্কার করা হয় ১৯৭৪। (ঙ) যে সূরাতে এতোকিছুকে গোপন করে রাখা হয়েছে, তার নাম মুদ্দাসসির কেন দেয়া হলো?
আপনি যদি সূরা মুদ্দাসসির পড়েন/ পড়লে দেখবেন, এই সূরাটির ১ টি আয়াত বাদে বাকি সব আয়াতগুলো খুব ছোট ছোট। আর এই অস্বাভাবিক আয়াতটা হচ্ছে সূরাটির ৩১ নং আয়াত। একমাত্র এই আয়াতেই ১৯ এর কার্যকারিতা সম্বন্ধে বলা হয়েছে। সূরাটার ১ টি আয়াতে গড়ে যতগুলো অক্ষর এসেছে, তার ১২ গুন অক্ষর এসেছে এই ৩১ নং আয়াতে। উল্লেখ্য কোরআনের সবচেয়ে বড় আয়াত, সূরা বাকারার ২৮২ নং আয়াত। সূরা বাকারাতে একটি আয়াতে গড়ে যতগুলো অক্ষর এসেছে, তার সমান ৬ গুন অক্ষর এসেছে ২৮২ নং আয়াতটিতে অর্থাৎ গড় অনুপাতের দিকে বিবেচনা করলে মুদ্দাসসির এর ৩১ নং আয়াতটি বাকারার ২৮২ নং আয়াতেরও ২ গুন। এই আয়াতটিতেই যেহেতু এসেছে ১৯ সংখ্যাটির কথা,তাই নিশ্চয়ই আয়াতটির মধ্যে ১৯ এর রহস্য লুকানো আছে ! আয়াতটিতে মোট ৫৭টি শব্দ আছে। ১৯×৩=৫৭। ৩০নং আয়াতটি গঠিত হয়েছে ৩টি শব্দের সম্ন্বয়ে "এর উপরে ১৯" = ৩×১৯ = ৫৭। আমরা দেখতে পাচ্ছি ৩০/৩১ দুটি আয়াতেই ১৯ এর সম্পর্ক রয়েছে।
আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো অনুপম সংখ্যা "১৯"। গণিতের দৃষ্টিকোণ থেকেও "১৯" অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর শুরু "১" দিয়ে যা গণিত এর প্রথম সংখ্যা ও শেষ "৯" দিয়ে যা গণিতের সকল সংখ্যার শেষ সংখ্যা অর্থাৎ ১৯ হলো গণিতের আলফা ও ওমেগা। উপরন্তু, ঊনিশকে ১৯ ছাড়া অন্য কোনো সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা অসম্ভব। অথচ পরের সংখ্যা ২০ কে ২,৪,৫ ও ১০ দিয়ে এবং আগের সংখ্যা ১৮ কে ২,৩,৬ ও ৯ দিয়ে ভাগ করা যায়। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারও ১৯ সর্বশ্রেষ্ঠ। ঊনিশের অংক দুটো। এক ও নয়। যোগ করলে (১+৯=১০)দশ। দশের অংক দুটো যোগ করলে (১+০=১) যোগফল এক অর্থাৎ একত্ব।মৌলিক।
বর্তমান বিশ্বে পবিত্র কুরআনুল কারিমের যে দিকটি বহুল আলেচত হচ্ছে " ১৯" সংখ্যাটির প্রয়োগ, সামঞ্জস্যতা ও তার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। পবিত্র কুরআনুল করিমে সংখ্যাটির যাদুময়ী প্রভাব কিভাবে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে? সত্যিই চিন্তার বিষয়। পবিত্র কুরআনের বিন্যাসে-বিভাগে-কাঠামো রচনাতে "১৯" এর বিবেচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র কুরআনের অগণিত মু,জেজার মধ্যে সবছেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং নিদর্শন হলো গোটা কুরআনময় "১৯" সংখ্যাটির কল্পনাতীত সংশ্লিষ্টতা যা শাব্দিক বুননে-সংখ্যার বুননে যা আপনাকে আমাকে সকলকেই প্রতিমুহুর্তে করবে বিমোহিত।
আমাদের প্রশ্ন হলো অনুপম সংখ্যা "১৯" এর দূর্ভেদ্য ফর্মূলা প্রয়োগ করে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের মতো এমন একটি বিস্ময়কর গ্রন্থ রচনা করা কারো পক্ষে আদৌ সম্ভব কি?★★★★★বাকী অংশ পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ★★★★★★★
*সহায়িকা গ্রন্থঃ*
১# অলৌকিক কিতাব আল কুরআান।
২# কুরআন সৃষ্টিতত্ত্ব
৩# কম্পিউটার ও আল-কুরআন
৪# কুরআান-কিয়ামত-পরকাল।
৫# আল কুরআান দি চ্যালেঞ্জ।
No comments