Prophetic Cure
কীভাবে বুঝবেন আপনার শত্রু অথবা জ্বীনেরা যাদু ছিটাচ্ছে? কীভাবে সেই যাদু নষ্ট করবেন?
এক. কোনো ব্যক্তিকে এই পদ্ধতিতে যাদু করতে চাইলে যাদুকর এই যাদুর বস্তু ব্যক্তির পথচলার স্থানে, পোশাকে, রুমে, বাসস্থানের গেটে কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ছিটিয়ে দেয়। ফলে ভিক্টিম ব্যক্তি সেই স্থান অতিক্রম করা বা পাড়া দেওয়ার সাথে সাথে আক্রান্ত হয়ে যায়।
এই যাদুগুলো কাছের লোকেরাই বেশি করে। সম্পদ দখল, মেরে ফেলা, বিচ্ছেদ ঘটনো, অসুস্থ করা, শরীর অবশ করা, পাগলামি সৃষ্টি করা ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে। এর প্রভাবে কখনো কখনো পায়ে কিংবা শরীরে পচন ধরার রোগ, চর্মরোগ ইত্যাদি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
দুই. কোনো যাদুগ্রস্থ ব্যক্তি যাদুতে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে লুকিয়ে থাকে মূল যাদুর খাদিম শয়তান। আর সেই যাদুর কিছু সহযোগী শয়তান থাকে শরীরের বাহিরে। এদের কাজ হচ্ছে যাদু রিনিউ করা। এই যাদু রিনিউ তারা কয়েকভাবে করে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভিক্টিমের বসবাসের জায়গায়, রুমের দেয়ালে, বিছানায় যাদু ছিটানোর মাধ্যমে রিনিউ করা। ফলে দেখা যায় যে, যাদুগ্রস্থ ব্যক্তি ঘরের বাহিরে অনেক সুস্থ থাকে কিন্তু ঘরে পৌঁছালেই তার অসুস্থতা ও জ্বীন যাদু কেন্দ্রিক শারীরিক- মানসিক কষ্টগুলো বেড়ে যায়। ফলে বিছানায় পড়ে থাকেন দিনের পর দিন।
একারণেই যাদুগ্রস্থ দম্পত্তিকে দেখা যায় যে ঘরের বাহিরে একে অপরের সাথে খুব ভাল সম্পর্ক, কিন্তু নিজেদের বেডরুমে প্রবেশ করলেই ঝগড়া-ঝাটি আর দা-কুমড়ো সম্পর্ক! ফলে স্বামী- স্ত্রীর একে অপরকে সহ্য হয় না। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে এই সিহরুল মারশুশ। যা যাদুর খাদেম জ্বীন শয়তানরা ছিটিয়ে যায় রুমের দেয়াল, ফ্লোর, বিছানাসহ বিভিন্ন স্থানে। ফলে ভিক্টিম ব্যক্তি যাদু ছিটানো স্থানে পৌঁছালেই তার সমস্যা বেড়ে যায়।
এজন্য বলা হয়ে থাকে যে—
"ঘরকে যাদু মুক্ত করে পরিষ্কার করা হচ্ছে যাদুর চিকিৎসার অর্ধেক।"
★ হাঁটুর নীচে, পায়ের তালুতে, পায়ের পাতায় ব্যথা থাকা।
★ পায়ে বা পায়ের তালুতে হার্টবিটের মত খোঁচা বা লাফালাফি অনুভূত হওয়া।
★ দুই হাঁটুতে ভার কিংবা অবশ অনুভূত হওয়া। ফলে হাঁটতে কষ্ট হওয়া, ব্যালেন্স না পাওয়া, হাঁটতে গেলেই অস্থির লাগা বা প্রচন্ড গরম লাগা, ক্লান্তি লাগা ইত্যাদি।
★ পায়ে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হওয়া।
★ ঘুমের ভেতর বা জাগ্রত অবস্থায় দৃষ্টিবিভ্রম (Hallucination) হওয়া।
যেমনঃ ঘরের মাঝে অদৃশ্য কিছু হাঁটছে বা তাকিয়ে আছে বা দৌঁড়ে চলে গেলো ইত্যাদি অনুভূত হওয়া। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ঘরে সিহরুল মারশুশ আছে।
★ নিজের ঘরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকা। কিন্তু বাসার বাহিরে সুস্থ অনুভব করা।
★ বিশেষ স্থান/ জায়গায় বা বিশেষ কাজ করতে গেলে অসুস্থ বোধ করা।
যেমনঃ রান্নাঘরে গেলে রান্না করতে অসুস্থ বোধ করা। বাসায় গেলে অসুস্থ বোধ হওয়া, অথচ বাসার বাহিরে সুস্থ বোধ করা ইত্যাদি।
★ যাদুগ্রস্থ রোগীর পুরো শরীর আংশিক অবশ বা জড়তা ভাব থাকা।
★ ঘরে বা কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় রক্ত বা পানি জাতীয় কিছু ছিটানো দেখতে পাওয়া; যার উৎস অজানা।
★ হঠাৎ করে শরীরে বা পোশাকের উপর কারণ ছাড়াই পানির ছিটা অনুভূত হওয়া।
পড়া পানির সাথে হালকা লবণ মিশ্রিত করুন। অতঃপর–
~ যেসকল স্থান/ জায়গা সন্দেহ করছেন সেখানে নিয়মিত দীর্ঘ সময় স্প্রে করুন, যতক্ষণ না সমস্যা যাচ্ছে।
~ আক্রান্ত ব্যক্তি যাদু ছিটানোর স্থানে গেলেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন। যেই জায়গায় সন্দেহ করছেন সেই স্থানে নিয়মিত দীর্ঘ সময় স্প্রে করুন, যতদিন না আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হচ্ছেন। স্প্রে করার সময় যাদু নষ্ট করার নিয়্যাতে সূরা ফালাক- নাস পড়তে পড়তে স্প্রে করুন।
~ যাদুগ্রস্থ ব্যক্তির বসবাসের রুমে, দরজায় সাধারণত বাহিরের খাদিম জ্বীনেরা যাদু ছিটায়। এজন্য যাদুগ্রস্থ রোগীর বাসস্থানের দেয়ালে, বিছানায়, দরজা, জানালায় নিয়মিত পড়া পানি স্প্রে করা জরুরী। এতে করে জ্বীন শয়তান যাদুকে রিনিউ করতে পারে না এবং আক্রান্ত ব্যক্তি নতুন করে পুনরায় অসুস্থ হোন না আল'হামদুলিল্লাহ।
~ কোনো কাপড়ে যাদু ছিটানো সন্দেহ হলে সেটি বালতিতে নরমাল পানির সাথে পড়া পানি মিশিয়ে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন এবং এর উপর যাদু নষ্টের নিয়্যাতে সূরা ফালাক- নাস পড়তে পড়তে পড়া পানি স্প্রে করতে থাকুন, যতক্ষণ না আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হচ্ছেন।
এছাড়া, যাদু নষ্ট করতে গিয়ে জটিলতার মুখোমুখি হলে অভিজ্ঞ রাক্বীর দ্বারস্থ হোন।
No comments