Header Ads

Header ADS

জাতিসংঘে গিয়ে Dr. ইউনূস 'সাইড ইভেন্টে' পশ্চিমা ব্লকের সাথে মিটিং করেছে। জাতিসংঘের ভাষণের চেয়ে এটার গুরুত্ব তিনগুণ বেশি।

 জাতিসংঘে গিয়ে Dr. ইউনূস 'সাইড ইভেন্টে' পশ্চিমা ব্লকের সাথে মিটিং করেছে। জাতিসংঘের ভাষণের চেয়ে এটার গুরুত্ব তিনগুণ বেশি।

ইভেন্টের বিষয়বস্তু ছিল রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার। ইউনূস তার বক্তব্যে পশ্চিমাদের কাছে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে।
১. রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সব স্টেকহোল্ডারদের (পশ্চিমা মিত্র) সমন্বয়ে একটা কনফারেন্স করা।
২. জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের যৌথ প্রতিক্রিয়াকে শক্তিশালী করা। (মিয়ানমার প্রসঙ্গে।)।
৩. গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে বিচার ও জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা।
অর্থাৎ নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে পুরনো জায়গা চুলকিয়ে ঘা বানালো ইউনূস। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশকে মিয়ানমারের দুই পক্ষই হুমকি দেবে।
★ ১ম হুমকি জান্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে।
আপনি কারো নামে বিচার চাওয়ার মানে হলো সে আপনার শত্রু। গণহত্যার ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশকে বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যােগ নেওয়ার মানে হলো, তার সাথে আপনার কথা হবে সামরিক ভাষায়। কারণ, তাকে আপনি মৃত্যুদণ্ড দিতে চাচ্ছেন। সে তাতে বাঁধা দেবে। আপনার প্রতি আরো কঠোর হবে।
নিকট অতীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ঘটনায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিরপেক্ষ থেকেছে। বাংলাদেশের ভেতরে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার প্রবেশ করার পরও বাংলাদেশ চুপ থেকেছে। মিয়ানমারের বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সৌজন্যমূলক আচরণ করে বাংলাদেশ ওদেরকে ফেরত দিয়েছে। পাহাড়ি সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টারশেল এসে পড়েছে, টেকনাফে গুলি এসেছে, সেন্টমার্টিনে যাওয়া-আসায় ব্যাঘাত ঘটেছে। বাংলাদেশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।
কারণ, এটা ওদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। জান্তা বাহিনী কিংবা স্বাধীনতাকামীদের কোনো এক পক্ষের সাথে যুক্ত হলে বা বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে পালটা গুলি চালালে–এর অর্থ দাঁড়ায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে বাংলাদেশ জড়িয়ে গেল।
আর আমেরিকা এটাই চায়। অন্যের সংসারে আগুন না লাগালে সেখান নাক গলানো যায় না। স্বার্থ হাসিল করা যায় না। আমেরিকা কেন এটা চায়? রোহিঙ্গা নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের কূটকৌশলগুলো কি? ইত্যাদি সব ভেঙে ভেঙে 'যা ঘটেছে যা ঘটছে যা ঘটবে' বইতে আলোচনা করেছি। ওটা পড়তে পারেন। সব পানির মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই পোস্টে বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই।
★ ২য় হুমকি আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে।
আরাকান আর্মি চীন ব্লকে ঢুকেছে। মিয়ানমারের স্বাধীনতাকামীদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ওরা। আরাকান রাজ্য টুডে অর টুমোরো স্বাধীন হবে।
আরাকান স্বাধীন হলে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে মর্মে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর সাথে আরাকান আর্মি আন্ডার দ্য টেবিল চুক্তি আছে। সত্যি বলতে আরাকান আর্মিকে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী নীরবে সমর্থন দেয়। অস্ত্র, রশদ, লজিস্টিক সাপোর্টও দেয়।
মিয়ানমারে কালাদান প্রজেক্ট নিয়ে একটা আর্টিকেল লিখেছিলাম কিছুদিন আগে। সাত রাজ্যের জন্য বিকল্প পথ বের করতে ওটা ভারতের প্রজেক্ট ছিল। পুরো প্রজেক্টের কাজ ৯০% শেষ হওয়ার পর আরাকান আর্মি ওই প্রজেক্টটা হিন্দুদের মায়ের ভোগে পাঠিয়ে দিয়েছে। ড্যান্ডিয়ানরা মাঠে মারা খেয়েছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার। আরাকানে ড্যান্ডিয়া রাজনৈতিকভাবে মাইনাস। আমেরিকা সমগ্র মিয়ানমারের রাজনৈতিকভাবে মাইনাস। উলটোদিকে চীন মিয়ানমারের দুই পক্ষের সাথে সমান তালে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলছে।
ইউনূস বলল অবিভক্ত আরাকানে পশ্চিমারা যেন শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। আরাকান আর্মি কি সেটা কখনো মানবে? কারণ, ওরা চায় স্বাধীনতা। এর ফলে একসময় বাংলাদেশের ওপরেও আরাকান আর্মি চড়াও হবে। ওদের সাথে আমাদের বাহিনীগুলোর সুসম্পর্ক নষ্ট হবে। বর্তমানে ওরা পার্বত্য তিন জেলার জেএসএস, ইউপিডিএফ, কুকি থেকে শুরু করে মগ পার্টি সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে শালটিংয়ের ওপরে রেখেছে। কিন্তু আরাকান আর্মি বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতি করে না। আমার নিজের অভিজ্ঞতা আছে এই ব্যাপারে।
এই আমেরিকাই কিন্তু একদিন হাসিনা সরকারকে টোপ দিয়ে বলেছিল, আরাকান রাজ্যকে বিভক্ত করে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত করা হোক। হাসিনা সেটার তীব্র প্রতিবাদ করেছিল। কারণ, হাসিনা আর যাই হোক; রাজনীতি বোঝে। এই অঞ্চলে আমেরিকা একটা গেঞ্জাম লাগানোর চেষ্টা করছে, সেটা লীগ যেমন জানে, বিএনপিও জানে। তাই বিএনপিকেও আমেরিকা মাইনাস করতে চাচ্ছে।
★ ইউনূসের সর্ব শেষ ইঙ্গিত।
মিয়ানমারের রাজনীতি থেকে বিতাড়িত আমেরিকাকে মিয়ানমারের ব্যাপারে নাক গলানের আহবান এবং আমেরিকার পাশে থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করার যেই চুলকানি ইউনূস চুলকালেন; এর মানে হলো, ইউনূস বাংলাদেশকে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরিয়ে আমেরিকান ব্লকে নিয়ে গেল। ইউনূস এই কাজে কতটা সফল হবে জানি না। তবে প্রবল চেষ্টা করছে।
আমেরিকা একটা গোলামের মতো গোলাম পেয়েছে। কেউ যদি একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বস্ত ও একনিষ্ঠ কোনো গোলামের উদাহরণ দেখতে চায়, সে যেন নোবেলজয়ী প্রফেসর ইউনূসকে দেখে নেয়।
From 🖋️আল ইন্তেফাদা

No comments

Powered by Blogger.